কবি গৌতম রায়


গৌতম রায়


পেশায় উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হলেও তাঁর নেশা কবিতা চর্চা। বিগত তিন দশকের বেশি কবিতা অনুশীলন করে এলেও নিয়মিত লেখালেখি শূন্য দশক থেকে। ভালোবাসেন প্রকৃতির অকপটতার পাশাপাশি কবিতার বাঁক। আবহমান ও প্রবহমানকে সম্মান জানিয়ে নতুন কিছু সৃষ্টি করার সদাই প্রয়াসী কবি গৌতম রায়। এ পর্যন্ত প্রকাশিত কবিতা গ্রন্থের সংখ্যা দশ। সেগুলো হলো- চৈতন্যভূমিতে (২০০৭), কালের প্রতিমা (২০০৮), উষ্ণতায় আহত আলো (২০০৯), নয়নতারা অনুশীলন (২০১০), শুভদার মাদল (২০১২), চোখের পা (২০১৩), জল সিন্থেসাইজার (২০১৬), স্থাপত্য স্টেশন (২০১৯), বকখালি মডেল (২০১৯), ধরে রাখি পারাবত নিশান (২০২১) ।

  কবি পেয়েছেন নানা পুরস্কার ও সম্মাননা। তাদের মধ্যে বিশেষ উল্লেখযোগ্য হরিপদ সাহিত্য মন্দির পুরস্কার(২০১০), জিরাফ পুরস্কার (২০১৩), মন্দাক্রান্তা পুরস্কার (২০১৮)।


গুচ্ছ কবিতায়

কবি গৌতম রায়



অসুখ সময়


ফেলে গেলে নারকেল  কাঁঠাল

বিস্তীর্ণ উঠোন দেখে না কেউ

ঝরে পড়া পাতার পচনে থমথম,---


প্রকৃতি বড়ো মমতাময়ী

উর্বরা ইন্ধনের উপর জন্মায় আগাছা

বেড়ে ওঠে মাটির টানে

বীজ থেকে ডারউইনের অঙ্কুর,

এরা জানে সন্ধ্যামণি না ফিরলেও

আশ্চর্যময়ী পৃথিবীকে ভালোবেসে 

এগোতে হবে তাদের ।


অথচ আমাদের এ এক নতুন প্রজন্ম খোলে না দরজা

ডুবে থাকা পণ্যখেলায়

আছে দুঃখের দলমা  

নেই দুঃখবোধের সুবর্ণরেখা ,

গ্রিল দেখায় জঞ্জালের স্তূপ ।


পড়োশির ঘুম হোক না হোক

উচ্চগ্রাম শব্দ মাতন

উষ্ণপানীয় উদোম নাচ

আচ্ছন্ন অসুখ সময় করে আছে ভিড়।


ঘড়ির কাঁটা এগোয় দোলনে

সময় কী এগোয় জলের তোড়ে

ঘুমেল নেশায় ?

ন‍্যাবের পয়ঃপ্রণালিতে জমছে

থার্মোকল প্লাস্টিক স‍্যাচেট

নীল বাইটের পিছল স্খলন।


জীবন ও কবিতা


নিজেকে আবিস্কার করতে করতে

একক চলনের নাম কবিতা


জীবন তোমাকে জানতেই 

সময় ফুরিয়ে যায়,

কবিতার খনিতে  

অতলান্ত গভীরতা,

যার ছেঁড়া ফসিলে 

জীবন সাজাই আমরণ।


একটি কবিতা লেখার পক্ষে 

একটি জীবন বড়ো কম পড়ে যায়


রুদ্ধকে ধারণ করে

অনিরুদ্ধকে তুলে আনা

সাতসমুদ্রও অপ্রতুল,

হে তপস্বী জীবন ----।

 

দেখি উত্তল অবতল মুখ


টুথপেস্ট টুথব্রাশ টাঙ ক্লিনারের

জাদুর প্রেমে পড়ি,

ভাষাটুকু পড়লে বুঝি

বর্জ্য নিবারণে এগিয়ে আসে

সার্বিক রসায়ন


প্রার্থিত প্রেমিকা আমার 

দাও স্বচ্ছ জলের ঝাঁকুনি---


স্থির জলের আয়নায় দেখি

আমার পৃথিবীর উত্তল অবতল মুখ


খিলানে খিলানে পৃথিবীকে 

করো মহৎ ,করো বৃহৎ

চওড়া হাসির পবিত্র নৌকোয় 

হাত ছড়িয়ে বসো প্রিয় স্বজনসুন্দর।



Comments

  1. সুখপাঠ্য তিনটা কবিতা।

    ReplyDelete
  2. ভালো লাগা কবিতাগুচ্ছ

    ReplyDelete

Post a Comment

Popular posts from this blog

কবি-প্রাবন্ধিক অমলেন্দু বিশ্বাস

সূ চি প ত্র

কিছু বলা কথা