কবি-প্রাবন্ধিক অমলেন্দু বিশ্বাস

 


অমলেন্দু বিশ্বাস

জন্ম:-২৪ নভেম্বর, ১৯৫৯।হাওড়া জেলার সালকিয়াতে।আশির দশকের গোড়া থেকেই লেখালেখি শুরু। কবি বিনয় মজুমদারের গভীর সান্নিধ্য তাঁকে আরো এগিয়ে নিয়ে গেছে। কিশোরবেলা ও গোটা যৌবনকাল ঠাকুরনগরে কাটান এবং শিক্ষাজীবন সমাপন করেন। দীর্ঘ বেকারত্ব ও দারিদ্র্যতা কখনো কবিতা থেকে দূরে ঠেলে দেয়নি। এযাবৎ প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ১৩টি। উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:-ডুবুরী, লখীর পা, সান্ধ্যভাষা,বিনম্রসনেটগুচ্ছ, নির্বাচিত কবিতাসংগ্রহ প্রভৃতি।  গদ্যগ্রন্থ - যেভাবে দেখেছি কবিদের। সম্পাদিত পত্রিকা 'নৌকো'। স্মারক সন্মানে ভূষিত হয়েছেন। কবি দ্বিজেন্দ্রলাল রায়।। কবি বিনয় মজুমদার। বাবাসাহেব আম্বেদকর। উত্তর বংগ নাট্যজগত। বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত। বিরাটিতে সপরিবারে আছেন।


@সম্পাদকের জানালা:

এ সংখ্যার জন্য মনোনীত 'নৌকো' পত্রিকার সম্পাদক কবি অমলেন্দু বিশ্বাস


বৈঠা হাতে, নৌকো-পথে 


স্কুল ও কলেজ জীবনের সন্ধিক্ষণে যখন কবিতা চর্চা শুরু করেছিলাম-- আশ্চর্য এক যৌবন তাড়িত আবেগ থেকে লিখতে লিখতে কিছু সমভাবাপন্ন বন্ধুর দেখা পেলাম। সকলেই প্রায় আমার শিমুলপুর গ্রামের, আর কেউ কেউ চিকনপাড়া,কারোলা গ্রামের অধিবাসী। কবিতার অতল সুখ খুঁজতে বুঝি আমরা পরস্পর একত্রে মিলিত হলাম। প্রথমে 'অনুভব'।পরে'বিনয় পরিমণ্ডল', অবশেষে 'নৌকো পত্রিকা'। লিখতে এসে আমাদের মনে হয়েছিল একটা শক্ত পোক্ত প্ল্যাটফর্ম দরকার। সেই নির্ভয় সাহস, অন্তহীন প্রেরণা ও শক্তি খুব বেশি করে নেপথ্যে জুগিয়ে গেছেন ঋষি কবি বিনয় মজুমদার। আর সঙ্গে তো ছিল আমার সুজন বন্ধুরা মানে কবি রনজিৎ হালদার, তীর্থঙ্কর মৈত্র, বিষ্ণু, পঙ্কজ, বৃন্দাবন ও গৌরীদি। ১৯৮৩ সাল। আমরা তখন ঘোরতর বেকার, জীর্ণ কুটিরে বাস করি। অর্থ দৈনতা আমাদেরকে অক্টোপাশের মত জড়িয়ে রেখেছে, অথচ স্বপ্নপূরণের দুর্নিবার আকাঙ্ক্ষাকে প্রজ্বলিত রাখতে ঝাঁপ দিলাম সাহিত্যের মহাসমুদ্রে। যদিও তখন খুব নিকটেই ছিলেন কবি বিনয়দা।ফলে, তার কাছে ডাক মারফত নিয়মিত আসা নানা রকমের লিটল ম্যাগাজিন দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল এবং সে কারণেই আশ্চর্য এক ধারণা জন্মাতে শুরু করেছিল।

২.

আত্মপ্রকাশ সংখ্যার প্রকাশ ঘটেছিল শারদীয় ১৯৮৩-তে। মলাটবিহীন ১/৪ সাইজের চার পাতার 'নৌকো' খুব শ্লাঘনীয় ঘটনা ছিল। কবি বিনয়দার চারটি কবিতা, সংগে অপটু হাতে আমার তাৎক্ষণিক কবিতার বিশ্লেষণ। এছাড়া আমার বন্ধুদের কবিতাও ছিল। আসলে শুরুতেই বোধহয় একটা চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য পরিস্ফুট ছিল। ক্রমে ক্রমে তা বিকশিত হয়ে আরও বিস্তৃতির দিকে ধাবিত হয়েছে। সে কথা পরে আসছি।১৯৮৫ সাল। তখন ঠিক করলাম কবি বিনয় মজুমদার শ্রদ্ধার্ঘ্য সংখ্যা প্রকাশ করব। কিন্তু কোথায় লেখা? আর পকেটের দৈন্যতাও প্রকট ছিল। যদিও তীব্র প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও অন্তরের সুতীব্র আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়িত করার প্রয়াসে সফলতা পেয়েছিলাম। দেনার দায় থেকে মুক্ত করা এবং পাশে ঠিক দাদার মতো এসে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন ছড়াকার কৃষ্ণলাল মাইতি। পেশায় পুলিশের বড়বাবু। ওই বিশেষ সংখ্যাটি যে পাঠকবর্গের প্রিয় ও ঋদ্ধতায় সুরভিত হয়ে আছে এখনো--- সে কথা বলাই বাহুল্য। লেখক সূচিতে সেসময় অনেক খ্যাতিমান কবি লেখকরা ছিলেন। তার মধ্যে সবিশেষ বলা চলে, ঋত্বিক ঘটক, শক্তি চট্টোপাধ্যায়, বিমল চন্দ্র ঘোষ, সনাতন পাঠক,অমিয় দেব, জ্যোতির্ময় দত্ত, সন্দীপ মুখোপাধ্যায়, বীতশোক ভট্টাচার্য, সন্দীপ দত্ত, দেবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, বার্ণিক রায় প্রমুখ।

৩.

আমাদের সাধ থাকলেও সাধ্যের বাইরে কিছু করার সক্রিয় প্রয়াস নিতে সক্ষমতা ছিল না। সব থেকে বড়ো অন্তরায় ছিল অর্থের যোগান।'নৌকো' ঘিরে আমার বন্ধুরা যে কজন কবিতাযাপনের দীর্ঘ সময় কাটিয়েছি অথচ সে সময় ঘোরতর বেকার। তবুও চা পান, বিড়ি টান আর কবিতায় মশগুল হয়ে থাকা। অবশ্যই আমাদের মধ্যমনি হয়ে থাকতেন কবি বিনয় মজুমদার। ইতিমধ্যে লিটল ম্যাগাজিন জগতে 'নৌকো' তার স্বকীয়তায় সমুজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল। সম্ভব হতো না দু-তিন ফর্মার বেশি কাগজ করা। ভালো মানের লেখা পাওয়া খুব কঠিন হতো। সাধারণ সংখ্যাগুলিতেও কেবল স্থানীয় কবিরাই নয়, নদীয়া, কলকাতা, বীরভূম, পুরুলিয়া, উত্তরবঙ্গ-এর তরুণতর থেকে অগ্রজ কবি-লেখকরা ভালো লেখা দিয়ে মান্যতা করতেন। তবে সম্পাদনার দিকে বিশেষভাবে নজর রাখতাম যাতে কোনোরকম যেন দায়সারা গোছের কিংবা গতানুগতিক সংকলন পর্যায় না হয়ে পড়ে, যেন পাঠক সমুহ পড়ে শুধু রসাস্বাদনই নয়, ঋদ্ধ হতে পারে। গোটা আশির দশকের সময়কালীন মুদ্রণশিল্পে তখনো আধুনিক টেকনোলজি আসেনি। সেই পাইকা, লাইনো টাইপে লেদ মেশিনে ছাপা হতো।মলাট হতো কাঠের ব্লকে নচেৎ জিঙ্ক ব্লকে। আমাদের সৌভাগ্য ঘটেছিল বাংলার অনেক প্রসিদ্ধ চিত্রকরের আঁকা প্রচ্ছদপটে বিশেষ নান্দনিকতা অন্বিত হয়েছিল। শ্রদ্ধায় স্মরণ করা যায়, রামকিঙ্কর বেইজ, দেবীপ্রসাদ রায়চৌধুরী, রামানন্দ বন্দ্যোপাধ্যায়, গণেশ পাইন, চারু খান, প্রকাশ কর্মকার, রাজ কান্তি, বাসুদেব মন্ডল, সুমিত্রা দত্ত চৌধুরী,তাপস ভট্টাচার্য, সাত্যকি বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমূখ।

৪.

১৫ বছর পূর্তি সংখ্যার পরিকল্পনা যখন মাথায় এলো, সে সময় আমি বিরাটির ভাড়া বাড়িতে থাকি। ওপারের কবি বন্ধু হেনরী স্বপন এর দৌলতে শিল্পী প্রকাশ কর্মকার-এর নতুন ছবি তখন আমার হাতে এসে পড়েছে।ফলে, আরেকটু সাহস ও মনোবল বেড়ে গেলো। ওই কবিতা সূচিতে দারুন নক্ষত্র মেলার সমাবেশ। বিনয় মজুমদার, আলোক সরকার, মণীন্দ্র গুপ্ত, দেবারতি মিত্র, ভাস্কর চক্রবর্তী, রমেন আচার্য, দেবদাস আচার্য, মৃদুল দাশগুপ্ত, জয় গোস্বামী, রনজিৎ দাশ, স্বপন চক্রবর্তী, জলধি হালদার, মল্লিকা সেনগুপ্ত, ঈশ্বর ত্রিপাঠী, অরুণ কুমার চক্রবর্তী, গৌতম বসু, বিভাস রায়চৌধুরী প্রমূখ।

৭২ পাতার এই বিশেষ সংখ্যাটির প্রকাশ উপলক্ষে আমাদের 'নৌকো' পত্রিকার পক্ষ থেকে প্রিয়তম কবি বিনয় মজুমদারকে সংবর্ধনা জ্ঞাপন করা হয়। তাঁর হাতে সশ্রদ্ধ ভাবে উপহার সামগ্রী তুলে দেন আমার মা। আড়ম্বরহীন এই অনুষ্ঠানটিকে সুশোভিত করেছিল শিল্প-বন্ধু চন্দন ওঝা। যদিও এখানে বিশেষ সংখ্যার উদ্যোগ নিয়ে দু-চার কথা বলতে চেয়েছি। নিজস্ব অভিজ্ঞতা ও ভাবনা থেকে কী তার অনুভব। ফিবছর তিনটে সংখ্যা কখনোই করা সম্ভব হয়নি। বছরে দু'টি সংখ্যার উদ্যোগ ও প্রকাশ নিয়ে দিনগুলি-রাতগুলি অতিবাহিত করেছি। বহুবার সমস্যা ও বিঘ্নতা ঘটেছে। তবুও ভেতরে এক ধরনের জেদ, প্রত্যয় ও অনুরাগ থেকেই বোধহয় এতটা পথ অতিক্রম করেছি। যখন কুড়ি বছরে 'নৌকো' পা দিলো, তখন একটি বিশেষ কিছু লেখার সমন্বয় সাধন করা। প্রচ্ছদে শিল্পী সমীর বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিত্রণ সংখ্যাটিকে অন্য ব্যঞ্জনা এনে দিয়েছিল। উল্লেখযোগ্য লেখা- গুলির মধ্যে বিশিষ্ট কবি-দম্পতি মণীন্দ্র গুপ্ত ও দেবারতি মিত্রের যুগলবন্দি সাক্ষাৎকার, রামকিঙ্কর বেইজের আত্মকথা, উদয়ন ঘোষের গল্প, কথাশিল্পী দীপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অগ্রন্থিত গল্প, বিনয় মজুমদারের ভিন্ন গদ্য। এছাড়া নির্বাচিত কবির কবিতাগুচ্ছ। সম্পাদনা ক্ষেত্রে বড় সমস্যা ছিল একদিকে অর্থসংকট, অন্যদিকে প্রুফ দেখার লোকের অভাব। এই অনটন অনুভূত হয় এখনো।

৫.

২০০৬ ও ২০০৭ সালের বইমেলা সংখ্যার একটা বিশেষ দিক ছিল কবি বিনয় মজুমদার এবং কবি ভাস্কর চক্রবর্তী। কবি বিনয়দার সাহিত্য অকাদেমি সম্মানে সেবার আমাদের প্রকাশনী থেকে তাঁর নতুন কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছিল ---'একা একা কথা বলি'। এটিই তাঁর জীবদ্দশায় দেখা শেষতম কাব্যগ্রন্থ ছিল।আর 'নৌকো' বইমেলা সংখ্যাটির বিশেষত্ব ছিল একদিকে বিনয় মজুমদারের কবিতা গল্প ও একাঙ্কিকা নাটক আর অন্যদিকে ভাস্কর চক্রবর্তীর কবিতা ও ব্যক্তি জীবন নিয়ে আলোকপাত। সবথেকে বড়ো ঘটনা হলো ভাস্কর তনয়া প্রৈতি চক্রবর্তীর খুব সুন্দর স্মৃতিচারণ গদ্য।প্রৈতি ওরফে সোনাঝুরি তখন নিতান্ত কিশোরী। তাঁর বাবার মৃত্যুশোক তাকে খুবই মর্মাহত করেছিল। সেবার কলকাতা বইমেলায় (ময়দান) 'নৌকো'-র টেবিলের বিক্রি এবং পাঠক সমাবেশ ঈর্ষণীয় ছিল।২০০৭ সালে বইমেলা সংখ্যাটি ছিল শোকাহত আবহে তৈরি একটি সংখ্যা। যেখানে কবি বিনয় মজুমদারের অপ্রকাশিত কবিতাগুচ্ছ, কবিতার খসড়া,জ্যামিতি ভাবনা, ছড়া সাতটি আর দুটি ভিন্ন গদ্য। আর তাঁকে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন মণীন্দ্র গুপ্ত, তরুণ সান্যাল, দেবদাস আচার্য, জ্যোতির্ময় দত্ত, কালীকৃষ্ণ গুহ, দেবারতি মিত্র, মৃদুল দাশগুপ্ত,একরাম আলি ও সন্দীপ মুখোপাধ্যায়, সুব্রত গঙ্গোপাধ্যায় প্রমূখ।

৬.

লক্ষ্য করে দেখুন আমাদের যেটুকু বিশেষ কাজ করতে পেরেছি তার অধিকাংশ প্রকাশ সময় কলকাতা বইমেলা। মূলত সেসব ক্রোড়পত্র এখনো প্রকাশ পেয়েছে তার বেশিরভাগটাই কোন প্রয়াত কবির প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি স্বরূপ। ২০০৮ সালের সংখ্যায় ছিল বুদ্ধদেব বসু,প্রণবেন্দু দাশগুপ্ত, অমিতাভ দাশগুপ্ত, আর গদ্য লিখে সংখ্যাটির মান্যতা বাড়িয়েছেন মণীন্দ্র গুপ্ত,আলোক সরকার, সুব্রত গঙ্গোপাধ্যায়, সুজিত সরকার প্রমুখ। এভাবে ফি-বছর বইমেলাতে আমরা বের করেছি ক্রোড়পত্র:- কবি উৎপল কুমার বসু, তরুণ সান্যাল, আলোক সরকার, মণীন্দ্র গুপ্ত।

তবে সবথেকে গুরুত্বপূর্ন তিনটে সংসার মূল্যবান কাজের কথা বলি--(১) ২৫ বছর পূর্তি ও বিশেষ কবিতা সংকলন বিশেষ গদ্য সংখ্যা। যত লেখা এ যাবত 'নৌকো'-তে প্রকাশিত হয়েছে তার থেকে বাছাই করে দশকওয়ারি বিন্যাস এবং সঙ্গে পত্রিকা সম্পর্কিত অভিমত। আর অন্যদিকে গদ্য সংকলনও গুরুত্বপূর্ণ ও ঋদ্ধময়। অবশ্যই একটা সময়ের দলিল। পরবর্তী সময়ে ৩০ বছর পূর্তিতে 'বিশেষ কবি ও কবিতা সংখ্যা' বৃহৎ কলেবরে ৪০০ পাতার এই সংখ্যাটি বাংলা পাঠকের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে আছে এই কারণে যেখানে কবি-প্রাবন্ধিকরা ভিন্ন গোত্রীয় লেখা দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন-- সুধীর চক্রবর্তী, তরুণ সান্যাল, আলোক সরকার, মণীন্দ্র গুপ্ত, দেবারতি মিত্র, সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়, গৌতম বসু, অরুণ কুমার চক্রবর্তী, শম্ভুনাথ চট্টোপাধ্যায়, সন্দীপ মুখোপাধ্যায়, কালীকৃষ্ণ গুহ, রবিন মন্ডল, অমিতাভ গুপ্ত, মৃদুল দাশগুপ্ত, জলধি হালদার, সন্দীপ দত্ত প্রমুখ।

৭.

এবার আসি ৩৫ বছরের বিশেষ কবি ও কবিতা সংখ্যা। কবিদের একটি করে কবিতাকে কেন্দ্র করে যেটুকু বিশ্লেষণ করেছেন কতিপয় কবি ও প্রাবন্ধিক। প্রায় ২৩ জন। তার মধ্যে দীপেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়,কমলেশ পাল, শহীদ ইকবাল, গৌতম বসু, সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়,সুব্রত গঙ্গোপাধ্যায়, দেবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, অরণি বসু, দীপঙ্কর বাগচী, চিরঞ্জীব সুর, শ্রীকুমার চট্টোপাধ্যায়, মনিদীপা বিশ্বাস কীর্তনীয়া প্রমূখ।

৮.

পরিশেষে বলি আমরা সুদীর্ঘ সময়ব্যাপী একদিকে কবিতাচর্চা আর একদিকে সম্পাদনা-- এই দুইয়ের ভারসাম্যতা, দায়বোধকে অব্যাহত রাখা বেশ কঠিন ও দূরুহ হয়ে ওঠে। প্রকৃতপক্ষে আমার কাছে পত্রিকা সম্পাদনা করাকে মনে হয় ভিন্ন ধরনের শিল্পচর্চা। যদিও যেসব অত্যুজ্জ্বল অক্ষর রেখে গেছেন বুদ্ধদেব বসু, প্রমথ চৌধুরী, সঞ্জয় ভট্টাচার্য, আলোক সরকার, অরুণ ভট্টাচার্য, মণীন্দ্র গুপ্ত থেকে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, জ্যোতির্ময় দত্ত, প্রণবেন্দু দাশগুপ্ত, প্রকাশ দাস, গৌতম গুহরায়, গৌতম মন্ডল আর ওপারের হোসেন দেলোয়ার,খালেদ-উদ্দিন, নাহিদা আশরফি প্রমূখ। আসলে বাংলা ভাষায় যত পরিমাণ লিটলম্যাগ বের হয় তার বেশিরভাগই উন্নত মানের নয়, বলা চলে সে সমস্ত পত্রিকাগুলিতে গতানুগতিক কিছু কবিতা, ছড়া, অনুগল্প দু-একটি কাঁচা প্রবন্ধ। প্রায় পরিকল্পনাবিহীন কাজ; যেখানে সুদুরপ্রসারী ভাবনার সহায়তা নেই। লেখা এবং লেখক নির্বাচনে যে ধরনের যত্নশীলতা ও মনস্কতার পরিচয় থাকা দরকার তার প্রায় নেই বললেই চলে। সাম্প্রতিককালে ছাপাকারে পত্রিকার প্রকাশ একটু হ্রাস পাওয়ার কারণ এই অতিমারি,করোনা কাল, লকডাউন আমাদের স্বাভাবিক জীবন ও যাপনশৈলীকে নানাভাবে বিঘ্নিত করেছে। যদিও অনেকে ব্লকজিন, ওয়েবজিন বের করছেন, সেখানেও মাঝে মাঝে চমৎকার লেখা সন্নিবেশিত হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে প্রধান সমস্যা হচ্ছে কিছুদিন পরে ভালো লাগা সেই লেখাটিকে আর হস্তগত করা সম্ভব নয়।ফলে, মুদ্রিতাকারে হলে দীর্ঘকাল ধরে বারংবার পাঠ করার আনন্দানুভূতি রেশ থেকে যায় অনেক কাল।

Comments

  1. কতো স্মৃতিই না জাগিয়ে দিলেন ,দাদা।মনে পড়ে সেই সব দিন।আমার কবিতা চর্চার শিক্ষক আপনারা ।ঠাকুরন গর rly stn এর আড্ডা .
    এখনো বৃন্দা বনের সাথে ওই সব নিয়ে কথা হয়। ভালো লাগে।
    ভালো থাকুন অমূলেন্দুদা ,দীর্ঘ জীবনের হিসাব কিতাব আরো দীর্ঘতর হোক।

    ReplyDelete
  2. কবি ও সম্পাদক অগ্রজ অমলেন্দু বিশ্বাস তাঁর জীবনের নানা টানাপোড়েন এর মধ্যে দিয়ে শুধু কবি ও নৌকো সম্পাদক নন। তিনি একটা বড়ো মাপের সংস্কৃতি - শিল্প সংগঠকও বটে। তাঁর নাম জানতাম, পরিচয় ছিল না। যখন পরিচয় হয় তখন মনে হয়েছিল এত আন্তরিক মানুষ আজও আছে? ভীষণ ভালোবাসায় কাছে টেনে নিলেন। তারপর তাঁর কাছে যাতায়াত শুরু করি। কোনওদিন বিরক্ত হতে দেখিনি। নিবিষ্ট মনে আমার লেখা পড়ে বিভিন্ন ধরনের ত্রুটি গুলো সংশোধন করতে বলতেন। যেন কাব্য শিক্ষক। মন খারাপ হলে দাদা র সাথে কথা বলি, মন ভালো করা কত উপদেশ দেন। আমার পত্রিকা খেয়া৯ র শুরু থেকেই তাঁর উপদেশ, মতামত খেয়া৯ কে সর্বজনগ্রাহ্য করে তুলেছে। কবি অমলেন্দু দার সহায়তা ছাড়া এতদ্রুত খেয়া৯ প্রচার পেতো না। আমি দেখেছি কত নতুন কবি ও লেখক কবি অমলেন্দু দার সহায়তায় অনেক ভালো লিখছেন ও প্রচার পেয়েছেন। দাদার প্রতি আমার আনুগত্য ও শ্রদ্ধা জানাই। এমন নির্মল, নির্বিরোধী মানুষ সত্যিই দুর্লভ আজকের দিনে। ভালো থাকবেন দাদা ।প্রণাম নেবেন । আবেগের বশে অনেক কথা লিখে ফেললাম।

    ReplyDelete

Post a Comment

Popular posts from this blog

কবি-প্রাবন্ধিক মামুন রশিদ

সূ চি প ত্র