কবি কল্লোল বন্দ্যোপাধ্যায়
কল্লোল বন্দ্যোপাধ্যায়
জন্ম: ১৯৫৭।প্রথম কবিতা প্রকাশ দেবকুমার বসুর সময়ানুগ পত্রিকায়।সম্পাদিত পত্রিকা অর্হণ।১৩টি চটি কবিতার বই এ যাবৎ প্রকাশিত হয়েছে।মূলত লিটল ম্যাগাজিনে লেখালিখি তবেদু ' পাঁচ বার বাণিজ্যিক পত্রিকায় লিখেছেন।প্রাপ্তি গোঁসাই বাগানে তার লেখালিখির ওপর জয় গোস্বামীর আলোচনা।নিজের সামান্য লেখালিখি নিয়ে একটি নিটোল কবিতার কাছে পৌঁছনো অবশিষ্ট জীবনের অভীষ্ট।
গুচ্ছ কবিতায়
কবি কল্লোল বন্দ্যোপাধ্যায়
ভাদ্র
ভাদ্র মাসে হাঁস বিক্রি হয়।চাষীবউ হাঁসিটি বেচে না , আহা ডিম দিচ্ছে রোজ।
তাহলে মদ্দা হাঁস , হংস যার নাম সবুজ মাথাটি নিয়ে
কি করুণ চোখ...
এসব ভাবলে কিন্তু কবিতাটি ডুবে যাবে নিষ্ঠুর মাংসের ঝোলে।
তুমি বাপু পয়সা ফেলে মাংস খাবে ...খাবার জিনিস...
সেবার বন্যায় ধানক্ষেত ডুবে গেল,উঁচু ভিত ডুবে গেল তাও
হাঁস গুলি ভেসে ভেসে চলে যাচ্ছে স্রোতের খপ্পরে...
শুধু আঙুর দি আর তার মেয়ে কুসুম কোমর সমান জল ভেঙে
আমাদের উঠোনে উঠে আসছে ছপছপ ছপছপ -
মা মুখ ঘুরিয়ে ঢুকে গেল রান্নাঘরে...
ফুটন্ত কড়াই থেকে নেমে আসছে আস্ত হাঁস
তার পালক থেকে গড়িয়ে নামছে সোনালী ঝোল...
সাপ
আমাদের মাটির রান্নাঘর।
কাঁঠাল কাঠের পিঁড়ি পেতে ভাত খেতে বসেছি
দাদু...আমি আর বাবা।
লম্ফোর আলোয় ছায়াগুলো নাচছে...
জানলার বাইরে নাজনে গাছে জোনাক।
ভাত ভাঙার আওয়াজ, ডাল মাখার সপ সপ্...
বহুক্ষণ কথা নেই কোনও
খাওয়া শেষ করে উঠে দাঁড়িয়েছে বাবার দীর্ঘ শরীর
আড়কাঠা থেকে একটা কালোসাপ হঠাৎ কামড়ে ধরলো
বাবার কাঁধ।
সাপটা ঘুরপাক খেতে লাগল ইস্ক্রুপের মতো.,.
কাঁঠাল কাঠের পিঁড়িতে কাঠ হয়ে আছে দাদু
আমি ছোট ছোট হাত তুলে চিৎকার করে লাফাচ্ছি... লাফাচ্ছি...
চিৎকার করতে...করতে..করতে...
এতটা বড়ো হয়ে গেলাম আমি।
অন্য একজন
রাত্রে এসে কেউ বলে যায় তাকে...
বাগানে টালির ঘর, আড়কাঠা জুড়ে
গেছো ইঁদুরের জ্বলজ্বলে চোখ, সাদাবুক
রোমশ শরীর...
রাত্রে এসে কেউ বলে গেছে ফিস ফিস করে
চমকে উঠেছে জেগে ,খটাশের বাক...বাক...
কাঠচেরা চিৎকার শুনেছে
নিজেরই কণ্ঠস্বর কানের পাশেতে বাজে
বেজে ওঠে অচেনার মতো
অন্যকোন মুখ নেই একা একা একটি জীবন
মদ খেয়ে খেয়ে তার ফুলে গেছে মুখ...চোখ
বলে কাকা সত্যি বলছি সারারাত ঘুমুতে পারিনা
কোনদিন ভেঙেচুরে দু টুকরো হয়ে যাবো আমি


মোহময় কবিতাগুচ্ছ
ReplyDelete