কবি আবদুস শুকুর খান
আবদুস শুকুর খান
উল্লেখ্য কাব্যগ্রন্থ:-জীবনের অসমাপ্ত কবিতা,নব জন্মে ফিরি মৃত্যুর বিষাদে, নৈঃশব্দ্যের স্বর , সম্পর্কহীনতায় দাঁড়িয়ে,কবির ঘরে কেউ আসে না, সুন্দর আছে চির সুন্দরে,প্রেম পদাবলী, সময়ের যতি চিহ্ন ভেঙে,ভাবো হে হন্তারক ভাবো, হাত বাড়িয়ে দাও, বেজে ওঠে মায়াবী গিটার, যা বলা হলো না,ইত্যাদি
উপন্যাস:- শিকড়ের ঘ্রাণ,অচেনা সম্পর্ক, আত্মজা,(বাংলাদেশ)।ভালোবাসার ঘরবাড়ি, মানুষ রতন,অবগুন্ঠিতা। বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত:-জলপরি,কোকিলের ডাক, রাত বারোটার ঘণ্টা,দূরের স্বজন,কাচের পৃথিবী ইত্যাদি।
গল্পগ্রন্থ:-পল্লী প্রেমের কাহিনী,দেবশিশু।সংকলন:-দুই বাংলার প্রেমের কবিতা।
গুচ্ছ কবিতায়
যত দূরে যাই
যত দূরে যার কাছে যাই না কেন, তবুও সেই
ঘুরে ফিরে মানুষের কাছে আসি ফিরে
মানুষ প্রাণ ভরে ডাকুক না ডাকুক, শুধু
একবার দরজায় এসে দাঁড়ালে
আর ফিরতে মন চায় না- মানুষ আর কিছু না পারুক
দু'দণ্ড জিরিয়ে শীতলপাটি বিছিয়ে
আপ্যায়ন করলে হৃদয় টলে যাবে।
এই পৃথিবীতে কত রকম মানুষ বাস করে
একের সঙ্গে অন্য ভাষার মেলেনা
বোধগম্যহীন থেকেও বোঝা যায় তার শব্দের সুধা
যেন কত জনমের তীর্থক্ষেত্র থেকে
চয়ন করেছে এই বসুধা।
মানুষের এই যোগ্য ভূমি ছেড়ে মানুষ আর কোথায় যাবে
যেখানে যত দূরেই যাক
হৃদয় বীণায় ঝংকার দিলে ভালোবাসার গান
মানুষ তার প্রিয় মানুষকে ছুঁয়ে
তার আরাধ্য ঈশ্বর খুঁজে পান।
জীবনের খেলা
ভ্রাম্যমান এই জীবন নিয়ে কেউ থাকবো না চিরদিন
যতই নিবিড় করে ধরে থাকি না কেন
কর্মঠ হাত একদিন বিবশ হয়ে যাবে!
আমরা আর কেউ কোনভাবে টের পাবো না
আমাদের পতন, শুধু
ঝুঁকে থাকা প্রিয় মুখ সময়ের দীর্ঘশ্বাসে
চিরতরে ধুলো হয়ে যাবে, তবুও
মাতৃগর্ভে সন্তান ভূমিষ্ঠ হবে এবং সময়ে একদিন
প্রতি মানুষের মৃত্যু হবে, এই আশ্চর্য নিয়ে
মানুষ ভেসে যাবে চিরদিনের পথে
লক্ষ কোটি বার পরে নতুন এক জন্ম ঘোরে
আত্মার পাখি হয়ে উড়ে এসে যদি
প্রাচীন পৃথিবীর তরুণ সূর্যের নিচে স্তব্ধ হয়ে
সেই মানব-মানবী কি আশ্চর্যভাবে
খেলে যায় জীবনের খেলা
দেখা
যাই কিছু দেখো না কেন ভালোভাবেই দেখো
অর্জুন যেমন জলের প্রতিবিম্বে চোখ রেখে
দেখেছিল মাছের চোখ, সেভাবে দেখো
একাগ্রতা না থাকলে সব দেখা অসার হয়ে যাবে।
শব্দের পূজারী তুমি, তোমার দেখার অন্যরকম
মাহাত্ম্য আছে; বাঘের মত অবলোকন শক্তি তোমাকে
ধীরে ধীরে নিয়ে যাবে অভীষ্ট লক্ষ্যে;
না, ঠিক সেভাবে নয়; তার থেকে আরো গভীরভাবে
দেখতে হবে, নিজেকে নিজের ভিতর যেমনভাবে দেখো
একজন দার্শনিক চোখ যেভাবে দেখে, সে ভাবে দেখো
প্রেমিকার চোখে চোখ রেখে যেভাবে মগ্ন হও মিলনে
সেই ভাবেই দেখো, তবেই
হৃদয়ে সঞ্চারিত হবে আলো, কুসুম ঝরার মতো কবিতা আসবে নেমে, শূন্য থেকে মহাশূন্যে অক্ষরের পাখি সব
মহা উল্লাসে করবে কলরব
এই দেখা একদিন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ শিল্প হয়ে যাবে...


Comments
Post a Comment