কবি হারাধন চৌধুরী


হারাধন চৌধুরী

জন্ম:- ১৯৬৬।‌ পেশায় সাংবাদিক। নেশা সাহিত্য, মূলত কবিতা। ছাত্রজীবন থেকেই কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ প্রভৃতি লিখতে ভালোবাসেন। তবে পেশাগত ব্যস্ততা, তৎসহ আলস্যের কারণে সাহিত্যবিষয়ক লেখালিখি অনেক বছর শীতঘুমে ছিল। সম্প্রতি বছর দুই আবার ফিরেছেন কবিতায়, গল্পে। বিভিন্ন সাহিত্যপত্রে (নতুন কবিসম্মেলন, মাসিক কবিতাপত্র, কবিতাআশ্রম, কবিতাপাক্ষিক, সুইনহো স্ট্রিট, মধ্যবর্তী, কবিতানগর, উদার আকাশ, কলেজ স্ট্রিট প্রভৃতি) শতাধিক কবিতা প্রকাশিত হয়েছে। নিয়মিত কবিতা লেখেন। কিন্তু একক কাব্যগ্রন্থ সংখ্যা স্রেফ শূন্য! বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত অনেকগুলি গল্পও প্রশংসিত হয়েছে। কলকাতার একটি প্রথম শ্রেণির দৈনিক কাগজে শতাধিক ব্যক্তিগত কলাম (বিশেষ নিবন্ধ) প্রকাশিত হয়েছে। এখনো নিয়মিত কলাম লেখক। একমাত্র প্রকাশিত গ্রন্থের নাম 'বাঙালি হাসছে চড়কীর হাসি'। এই প্রবন্ধসংগ্রহটির প্রকাশক 'উদার আকাশ'।


গুচ্ছ কবিতায়

কবি হারাধন চৌধুরী

হ্রস্ব-দীর্ঘজ্ঞানের সুড়ঙ্গ


এই জলে কুমিরের কাছে তুমি কেউ নয়—

দাঁত নখে দিচ্ছ শান, খাবে কঙ্কালের মাংস!

চেনা মানুষেরা মাস্ক পরে থাকে যদি, ভয়

কীসের? প্রহর গেছে বদলে কখন, হ্রস্ব-


দীর্ঘজ্ঞানের সুড়ঙ্গ খুঁজে, নিশ্চয় জানো না। 

অজান্তে সাপের বিষ হজমের প্রবাদটা

টর্চ ধরে আছে বুঝি গভীর জলে জঙ্গলে?

কুমিরের চোয়ালের ভাঁজে দ্যাখো, কেউ ফেলে


গেছে যুদ্ধের কৌশল: ভিকট্রি স্ট্যান্ডের সামনে 

দাঁড়ালে সবচেয়ে ভালো চেনা যায় নিজেকে। 

মাছেদেরও ডানা হয়

এই নদীর অন্তরে আঁশগন্ধ লুকিয়ে রয়েছে—

কোন বোষ্টমী খায়নি জল এই অজুহাতে?

কে পড়েনি প্রেমে একবার অন্তত, জীবন

তো জোয়ার-ভাটা নয়। চুপি চুপি আমিষভক্ষণ 

পাপের ভিতর ফেলো না, দোহাই। ছলনায় মাছেদেরও ডানা হয় যদি সাময়িক যেতে হয় উড়ে! ভালোবাসা পেলে খাঁটি, বিষেতে ভেজাল মিশে যায় জাদুবলে। খুনসুটি হারাম-হালাল! 

জলছবি

অনেক নাম কেটেছি একে একে! অনেক দিনেও ভালোবাসেনি আমাকে তারা।  এই সাক্ষ্য ক্যানভাস জুড়ে এঁকেছে যত্নে মৃতরা একদিন! জলের মতন মেপেছি সেসব হয়তো।

তুমিও ভালোবাসোনি, আরো জানি, কখনো বাসবে না।

তবুও কাটতে পারিনি নামটি তোমার, গোলাপের কাঁটা

বিঁধে যায় হাতে; মালিটি যদি-বা আমি! 

রক্তে কি এমন জলছবি: তোমাকে ভালো বেসেছি! 




Comments

Popular posts from this blog

কবি-প্রাবন্ধিক অমলেন্দু বিশ্বাস

সূ চি প ত্র

কিছু বলা কথা