কবি বিকাশ চন্দ


বিকাশ চন্দ

জন্ম:- ১ লা এপ্রিল ১৯৫৫, জন্ম স্থান - কামারদা,খেজুরী থানা, পূর্ব মেদিনীপুর। মা সরমা চন্দ, বাবা সুবোধ চন্দ। অবসর প্রাপ্ত কেন্দ্রীয় সরকারী কর্মচারী। পেশার বাইরে কবিতা,গল্প, ছড়া, প্রবন্ধ, গীতি আলেখ্য, আঁকা নিয়ে জীবন, শুরু ১৯৭২থেকে। প্রচুর লিটল ম্যাগাজিনে লেখা প্রকাশিত হয়েছে, হচ্ছে। ওয়েব ম্যাগাজিনে দেশে বিদেশে লেখা প্রকাশিত হচ্ছে। প্রকাশিতকাব্য গ্রন্থ নয়টি, কাব্য নাটক ১টি। কিছু সম্মাননা/পুরস্কার জুটেছে। বিপন্ন মানুষের কাছে থাকা প্রাণের টানে মনের টানে। অসহায় মানুষের কথায় কাজে প্রকৃতি মাটি জলের ক্যানভাসে কবিতার সংলাপে এক অক্ষরকর্মী। অক্ষর ভাবনার আত্মিক প্রয়াসে জীবনের উপান্তে দাঁড়িয়েএখন কলম আঁকড়ে কালাতিপাত। কাব্যগ্রন্থ : বীজে অঙ্কুরে বিনষ্ট শিকড়ে ,বর্ণ বিহীন বর্ণ বিকাশ ,ঋতু বদলের ছবি, আকাশ গঙ্গায় নক্ষত্র ভেলা , বিষণ্ণ দ্রোহ কাল , শূন্য শরীরে স্থপতির হাত, সাদা ফুলের কফিন , অনুচ্চারিত শব্দের কোলাহল, হৃদয় বাঁচে আত্মার আড়ালে।কাব্য নাটক : ঝিনুকের চোখে মুক্তা জল ১৪২৮।

গুচ্ছ কবিতায়

কবি বিকাশ চন্দ



এমন ও আলোর বিষ্ময়

জহ্লাদেরা দেখে গেছে আমার পুনর্জন্ম মুখ

বাঁ হাতের বাহুতে বিষ জ্বলতে জ্বলতে নীল অবয়ব,

এ সময়ের শব কিছু মাটির তলায়

কিছু শব চিতায় জানে দয়ালু ঈশ্বর কণা,

অনর্গল কথায় ভেসে যাচ্ছে সকল সাদা মুখ

নীল মেঘ কালো আশ্চর্য বীভৎসতায়---

এক ফাঁকে উপচে পড়ে ভেজা জ্যোৎস্না আলোর আত্মা। 


অরুচি ছিলনা তাই কোন নতুন দিশা নেই হেমলক বিষে

বীরভোগ্যা অহংকারী চোখ বোঝে না অভিমান,

খুবলে খাচ্ছে উদ্যান ফলক সবুজ ঘনিষ্ঠ সংলাপ 

কিছু বিমর্ষ মুখ শিশু নারী অন্য আরও সব,

সকল ইন্দ্রিয় ঘুরে বেড়াচ্ছে দোরে দোরে

পাখদের কথা ফুলেদের ঘ্রাণ খুঁজে ফেরে শ্বাসের নির্যাস। 


স্মরণ কালে কেউ এসে শোনেনি একান্ত কথাগুলি

অজস্র স্বপ্নের ভেতর গুমরে আছে অজস্র পাণ্ডুলিপি, 

জীর্ণ দেয়ালে সেঁটে আছি বিবর্ণ জল ছবি 

যদি পারি প্রাণ বায়ু রেখে যাবো বিশুদ্ধ হাওয়ায়,

খেলা ঘরে এখন খুঁজে ফিরি একটু জন্মের উত্তাপ 

বুঝিনি অন্ধ সময়ে এমন ও আলোর বিষ্ময়।

 

নাভি চক্র


শূন্য থেকে শূন্যে টানে জানে বোধহয় অনন্ত মহাকাল

আকাশ জুড়ে সূর্যের টান বোঝে নদী সমুদ্রের জলোচ্ছ্বাস, 

প্রেমময় চাঁদ ভাসে জলে আকাশে  উদাসী মেঘ ছায়া

মাটি গাছের ভালোবাসা বনজ গন্ধ মাখে বন কুটির, 

ভূমি কন্যার সন্তান সন্ততি আগলে হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন 

ভালোবাসা ছাড়া ক্ষুধা তৃষ্ণা ঘুম জানে অনিত্য অরন্ধন। 


শরীরে শেকড়ে জড়িয়ে আদি অন্ত আত্মজ সুঘ্রাণ 

অভিমানী চোখে জেগে থাকে দুঃখ উপাসনা, 

রাত্রির ছায়ায় ভাসে শরীর আঁচলে বাঁধা সংযম

দ্বিধা হীন মুখেরা মায়াময় কোথায় লুকোবে জোনাক মায়া,

জোয়ার ভাঁটা জানে কুলকুল ভাসে শরীরী উজান

অন্তরঙ্গ সময় হৃদয়ের কথা বোনে অন্য অভিমুখ। 


জঠরে ক্ষিধের সাথে দলা পাকিয়ে বাঁচে জন্ম কুঠুরি 

শরীরে গাছে পাতায় ফুলে দিনের আলো রাতের আবরণ,

বৃষ্টিতে ভেজে মানুষ গাছ সন্ন্যাসী শ্যাওলা জড়িয়ে সৃজন

আত্ম ঘরে জলের উল্লাস স্নিগ্ধ হৃদয়ে নিষিদ্ধ বলয়ে,

ভুলেছি জন্মান্তর কাল কোঁচড়ে অন্তরীন অনন্ত বিশ্বাস

শেকড়ে বাকড়ে সকল নাড়ি টান বেঁধে রাখে নাভি চক্র মুখ। 


দৃশ্যপট


ইচ্ছে না হলে দুয়ারে থমকে যায় মুখর উৎসব 

মানুষটি বুক সাপটে দাঁড়িয়ে একাকী, 

দু'হাতের ফাঁকে গলে পড়ছিল মুখের ছায়া

চোখের তারায় তখন আত্মার সৌরভ,

বুকের ভেতর আশ্চর্য মাংসপিণ্ড উত্তাল

বর্ণ ময় শব্দ গড়িয়ে পড়ে ঘাসে ফুলে বীজে। 


ইতিহাস থমকে রাজপথে আওয়াজ হল্লা বোল

প্রতিদিন প্রহর গোনে আত্মার মায়া জন্ম মৃত্য হিসেব,

যথেচ্ছ গড়িয়ে পড়ছে জীবনের অঙ্কুর বীজ

বিমর্ষ দেবাদিদেব যজ্ঞের আগুনে দেখে উন্মাদিনী, 

বাঘ সিংহ শেয়াল ঘিরে আছে ঈপ্সিত রক্তপিণ্ড

শক্তময়ীর কক্ষপথে তখন মধ্যবিত্ত মানুষের ঢল। 


দেব দ্বিজে অগাধ বিশ্বাস জানে এ মর্ত্যলোকে 

ভাগ্যিস জন্ম কালের স্বাদ বোঝেনি গরল অমৃত, 

নীল বাতি লাল বাতি হুটার শব্দ বোঝেনি মানুষটি

বোঝেনা জনপদ ফুরোলো জীবনের সকল সঞ্চয়,

দিব্যি বন্ধকী ঋণে পোষাকী জৌলুশ মগ্ন তন্ত্রলোক

কষ বেয়ে গলগল নীল রক্ত আবারও বদল দৃশ্যপট। 



Comments

  1. অসাধারণ লেখাগুলো। ধন্যবাদ জানাই কবিকে।

    ReplyDelete
  2. SUPER, SUPER APNER LEKHONI SIR, MOME RAKHBO SIR.

    ReplyDelete

Post a Comment

Popular posts from this blog

কবি-প্রাবন্ধিক অমলেন্দু বিশ্বাস

সূ চি প ত্র

কিছু বলা কথা