কবি শাহীন চৌধুরী ডলি
শাহীন চৌধুরী ডলি
জন্ম:- বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। তিনি ছোটবেলা থেকেই সাহিত্যমনা। এ সময়ের একজন সাহিত্যক, প্রাবন্ধিক এবং কলাম লেখক হিসেবে দেশ - বিদেশের বিভিন্ন পত্রিকা ও ম্যাগাজিনে নিজের জায়গা তৈরি করে নিতে সক্ষম হয়েছেন। নিয়মিত লেখালেখি করেন৷ তার প্রকাশিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে অন্যতম - কৃতাঞ্জলি, বিমূর্ত পদাবলি, ভালোবাসার সাত রং, চার জোনাকির মিলনতিথি, কবিতা বিলাস। পড়া এবং ভ্রমণ করা তার প্রিয় শখ৷
গুচ্ছ কবিতায়
কবি শাহীন চৌধুরী ডলি
অচেনা খোয়াব
সান্ধ্য সমীরণ ভালোবেসে চুমো আঁকলে
মাতাল হয় হাজারো গোলাপ
উপচে পড়া ঘৃণা সরিয়ে
উজার হয় রাতের অচেনা খোয়াব।
কলঙ্কের কোল ঘেঁষে কেবল চাঁদ কাঁদে
ঘুমের মধ্যে কেঁদে ওঠে বাবলার বন
সবুজ বনের কালো মেঘ সরে গিয়ে
আকাশে ডানা মেলুক আলোর হাসি।
জীবনের গভীর অধিকার নিয়ে নামুক বৃষ্টি
দিগন্তের উষ্ণ মাথায় হাসিতে বারি ঝরুক
জলের তোড়ে জেগে উঠুক প্রেমের উপত্যকা
রাতের চৌকাঠ থেকে নেমে যাক অভিমান।
ভালোবাসা আনন্দকে প্রস্ফুটিত করে
ভালোবাসা জলের সমীপে নিমগ্ন ঋষি
ভোরের সূর্যোদয় থেকে আলোর নিগৃহে
রিমিঝিম বৃষ্টির ছন্দে হিংসার সৎকার করি।
শর্তহীন
প্রগাঢ় রাতে স্বপ্ন দেখি
আমি তোমার সাদা-কালো একটা ছবি তুলছি
বর্ণহীন.....
তোমার সাথে আমার কোথায় কখন দেখা হবে
হঠাৎ
শর্তহীন.....?
জন্মের পর থেকে আমি তোমার
ডানহাত - বামহাতের করতল
ব্রেসলেট হয়ে কবজিতে ঘুরি।
দুই ভ্রুর মাঝে যতটুকু ব্যবধান
আমাদের দূরত্ব তার অনুরূপ,
তুমি আমার অভ্যাস
তুমি অচেনা কোনো আগন্তুক নও।
আমার কোনো গোপন কথা নেই
আমার কোনো রক্ষক নেই
জন্মের পর থেকেই তোমার - আমার সখ্যতা
তুমি আমার মৃত্যু
আমি তোমার জীবিত রাষ্ট্র।
স্বপ্ন মন্থন করে মন
আজ রাত আমার জীবনের দীর্ঘতম রাত
আজ রাত সহনশীলতার রাত
আজ রাতে স্মৃতিগুলো জেগে উঠবে
এবং স্বপ্নেরা ঘুমাবে।
মন এবং মস্তিষ্ক ধরে রাখতে পারে না
অনেক অতিথির উপস্থিতি
বিরতিকে এলোমেলো করে দিতে
অতীতের কোণ থেকে উঁকি দেয়
একটি মাত্র মুখচ্ছবি।
আমার স্বপ্নগুলো হারিয়ে গেছে
রক্ত মুখে দাঁড়িয়ে আছে স্মৃতি
কেউ অধিকার আঁকে, কেউ বাঁক আঁকে।
যে স্বপ্ন নিয়ে চলে গেছে
সে পাখি হয়ে ফিরে আসে না
খুন হয়ে যাওয়া স্বপ্ন মন্থন করে মন।
প্রতি রাতে অম্বরে জেগে উঠে একটি চাঁদ
চাঁদ কখনো দিন দেখেনি
সহমর্মি চাঁদ আমার জীবনের দীর্ঘতম রাতে
জীবনানন্দের কবিতা শোনাবে
আলো সংগ্রহের কানুন শেখাবে।


ভাল লেগেছে কবিতাত্রয়।
ReplyDelete