কবি পৃথা চট্টোপাধ্যায়
পৃথা চট্টোপাধ্যায়
কবিতা ও গদ্য লিখতে ভালোবাসেন। কবিতার বই এবং পত্র পত্রিকার আলোচনা করে থাকেন বিভিন্ন পত্রিকায়।কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে স্নাতকোত্তর। কলকাতার একটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত। তাঁর লেখা দেশ, কবিতা পাক্ষিক, সুখবর, দৈনিক বজ্রকন্ঠ প্রভৃতি বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়ে চলেছে। নিভৃত সাহিত্য যাপনের পক্ষপাতী ছিলেন বলেই প্রকাশ্যে আসতে দ্বিধা ছিল কবির।তাঁর "উল্কি আঁকা নদীজল" কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশের পথে।
গুচ্ছ কবিতায়
কবি পৃথা চট্টোপাধ্যায়
আবার শ্রাবণ
বৃষ্টি বাজে পাতায় পাতায়
নদী তীরে বানভাসি জল
সুপ্ত বীজে জাগে মৃৃদু প্রাণ
গাছ পরে হরিৎ বল্কল
ধ্বস নামে পাহাড়ের কোলে
কোটালের ডাক শোনে নদী
মরা জমি চষে দিলে জাগে
লাঙল পাগল নিরবধি
রাতভর সৃষ্টি সুখে মাটি
ভোর হলে উড়ে যায় চিল
অবাক ডানায় ভর করে
কেন খোঁজা জীবনের মিল!
ঘন হয়ে এসেছে শ্রাবণ
আকাশ বিরহী মেঘে ছেয়ে
কদমের রেণু ঝরে পড়ে
ঋতুমতী ধানখেত চেয়ে
আগুন রঙের সাপ
ঘুরে ফিরে দিনরাত সাপ দ্যাখে পাখি
এক বুক তৃষ্ণা নিয়ে নদীর জলের পাশে
নিবিড় দাঁড়িয়ে থাকে
আবছায়া অন্ধকারে ফুলের গাছের কাছে
খেলা করে আগুন রঙের সাপ
ছেড়ে রাখে অবাক খোলস
পাখির ঠোঁটের কাছে, খুব কাছে এসে
ঢেলে দেয় হিসহিসে বিষ
ফুলের শরীর ছুঁয়ে দুধ সাদা গরল গড়ায়
পাখির ঠোঁটের থেকে
ঝরে পড়ে, ঝরে যায় চন্দ্রমায়
চাঁদের নিটোল বুকে
এঁকে দ্যায় কাটাকুটি খেলা
সাপ কেন রেখে যায় সাপুড়ের বাঁশি
বিকেলের ওম
অবেলার রোদ আমাকে থামিয়ে দেয়
নিরন্তর দাঁড় করিয়ে রাখে যুবতীর আলে
ফড়িং এর ওড়াউড়ি দেখে মন
ছুঁয়ে থাকে বিকেলের ওম
মাছের চোখের নিষিদ্ধ টানে
উষ্ণ হয়ে ওঠে পুষ্করিণী
খলবলে জিওল আসে খুঁটে খেতে
ধার্মিক বকের চঞ্চুতে খেলা করে মাছ
সুন্দরী, গরানের পাতায় ফিকে হয়ে আসে আলো
ঝুঁকে পড়ে অলীক ছায়া
জলের আয়নায় ভেঙে যায় কবোষ্ণ বুক
নিরঞ্জন মায়া ঢেকে দেয় শরীর ও মূর্চ্ছনা


খুব সুন্দর
ReplyDeleteখুব খুশি হলাম।
Delete