কবি রামকিশোর ভট্টাচার্য
রামকিশোর ভট্টাচার্য
জন্ম:- ৬ই জুন ১৯৫৮ সালে জন্ম ৷মূলত কবিতাই ভালোবাসা ৷ প্রবন্ধ, গল্প ও ছোটোদের জন্যেও অনেক লেখা আছে ৷ মোট ১২ টি কাব্যগ্রন্থ ও চারটি ছড়াগ্রন্থ আছে ৷ দুটি অনুবাদ কাব্যগ্রন্থ আছে ৷প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ:-নতুন জলের গন্ধ,স্বপ্নপূরণ সিলেবাসগুলি,ইমন মনের বিলাসখানি,একতারায় নির্বাচিত রামকিশোর, পাতাঘুঙুরের ছায়ালিপি ইত্যাদি ৷ আপাত শেষ কাব্যগ্রন্থ "নির্জন কোমল ঋষভ"।অনুবাদ গ্রন্থ:-Dream Sequence & Snake Ladder ,Songs of Mohenzodoro. একাধিক সম্মান পেয়েছেন তিনি।তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, বিষ্ণু দে পুরস্কার,মঞ্জুষ দাশগুপ্ত স্মৃতি পুরস্কার, কবিতা পাক্ষিক সম্মান,মালীবুড়ো স্মারক সম্মান প্রভৃতি।
গুচ্ছ কবিতায়
কবি রামকিশোর ভট্টাচার্য
রিমঝিম
পড়ে থাকে রিমঝিম বিষন্নদিন। সেইসব রাস্তা ও গলি
মন বাজাবার সন্ধে হয়ে দশদিকে গিয়েছে ছড়িয়ে…
ওলফগির্জার মাঠে কতবার খুঁজেছি তোর কৈশোরবেলা
ঝামেলার টুকরোগুলোই শুধু লেগে আছে ঘাসেদের গায়ে।ডোকরার দুলে লেখা ছিল বন্ধুদের নাম। অন্যদিকে
কফি কাপে আমাদের গল্পের দাগ। এসবই কখন যেন
রিমেকশিল্পের নামে পাঠিয়েছে পতঙ্গের দল। সেসব পতঙ্গের ছায়াছবি দেখে আমার সন্তানও হেসে ওঠে
তাকে গল্প শোনাই ডেনিস রাজার। সেলাইয়ের দাগে
মাঝে মাঝে ফুল ফোটে। দু'একটি বৃষ্টিকণা ও রিমঝিম বাজে...
রহস্য
একটা মৃত্যু হাত বাড়াচ্ছে আর একটা মৃত্যুর দিকে। হালকা বেগুনী।
রহস্য জমছে ঈশান কোণে। এক পা এক পা অন্ধকার এগিয়ে এলে
চোখ থেকে বেরিয়ে আসা কনকলতায় নিঝুম ভাবনারা বসে।হাত নাড়ে।
শরীর তখন গভীর জঙ্গল। কৃষ্টাল আলো ছড়িয়ে যায় হওয়ায়। ত্বকের উপর
চাঁদ পোড়া দাগ দেখে বন্ধুরা ধীরে ধীরে নীলাভ হয়ে যায়
তারপর সাধা। নিজের মাথা খুলে সেখানে বসানো হল জল্লাদের মাথা। জল্লাদের ঘাড়ে
মানিয়ে গেল নিজের মাননীয় মস্তক। যারা তাই দেখে মায়াজাল ছুঁড়ে ছিল
তারাই স্ফুলিঙ্গ হয়ে উড়ে যাচ্ছে সম্মান-সরণির দিকে। সবাই ঈশ্বর ভেবে
ছুঁড়ে দিচ্ছে সাত রঙ। গান বাজছে মর্গের ভিতর ভালো থাকো
বিধিসম্মত সতর্কীকরণ--
জল অপচয় করো না
প্রতিটি অশ্রুদানাই তোমার নিজের।জল অপচয় করো না
এমনকি পেঁয়াজের সঙ্গে দোস্তিতেও নয়। মস্তিতে উপচে পড়া অশ্রু নিয়ে কেউ কেউ সুপ খায়। ঠিকানা খোঁজে মন খারাপের। কয়েক ফোঁটা মুহূর্তের দানা
ঘূর্ণি হতে পারে। মরমিয়া তরল জমতে পারে কাজকম্মের ভিতর। জলের গন্ধও সস্তায় কেনা বেচা হয়।
দোমড়ানো গালের থেকে উবে যায় ফ্লাইওভারের দাগ ।
আহা কত অশ্রুজন্ম খেয়ে নিলো ভ্যাকুয়াম ক্লিনার।
নীরব রুমাল শুয়ে থাকে বাঁক নেওয়া পাড়ায়। নিষ্পাপ।
ভিতরে ভিতরে তার তুলকালাম চলে--


Comments
Post a Comment