কবি দেবাশিস মুখোপাধ্যায়
জন্ম:- ১৪ই জুলাই ১৯৬৯ কুলটিতে। বর্তমানে তিনি হাওড়ার বাগনানে বাস করেন । তার কবি জীবন শিশুকাল থেকে । কবির বাবা কুলটি ইস্পাত কারখানার করণিক ছিলেন , মা গৃহবধূ । পাঁচ সন্তানের মধ্যে কবি সর্বকনিষ্ঠ । কুলটি কালচার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিদ্যারম্ভ এবং পঞ্চম শ্রেণী থেকে উচ্চমাধ্যমিক কুলটি উচ্চ বিদ্যালয়ে । আসানসোল বি. বি . কলেজে ইংরেজি অনার্স নিয়ে ভর্তি এবংবর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে এম . এ পাশ এবং বি এডবেলুড় শিক্ষণ মন্দির, হাওড়া থেকে। ২০০২ পর্যন্ত গৃহশিক্ষকতা এবং চাকরিSSC এর মাধ্যমে বাইনান বামনদাস উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ইংরেজির শিক্ষক । কলকাতার ইন্দ্রাণী পত্রিকায় যখন কবিতা প্রকাশ হয় তখন কবি দশম শ্রেণি 1983. এরপর প্রথম কবিতার বই1997ক" কবিতার একখন্ড মুখ" । এরপর কর্মসূত্রে বাগনানে এবং দ্বিতীয় কবিতার বই "আজকাল পরশুর গল্প ",এরপর এখন বাংলা কবিতার কাগজ প্রকাশ করে " শূন্য কিন্তু শূন্য নয় " ,পত্রলেখা থেকে " ভূমিকা প্রেমের কবিতার " , কবিতা ক্যাম্পাস থেকে " বিষন্ন রেখার পারে " এবং সুতরাং থেকে " ভেনাস বিউটি পার্লার " এবং নতুন পাতার গন্ধ " । কবি কবিতায় বাঁচতে চান। কৃত্তিবাস , কবিতা ক্যাম্পাস, কৌরব , ভিন্নমুখ, কবিকন্ঠ , এখন বাংলাকবিতার কাগজ, আদম , কবিসম্মেলন , সানন্দা , এইসময় , গুহালিপি ,দমদম জংশনএবং অসংখ্য লিটিল ম্যাগাজিন , দেশ বিদেশের ওয়েবজিনে কবি লিখে চলেছেন।
গুচ্ছ কবিতায়
কবি দেবাশিস মুখোপাধ্যায়
বাদলকুসুম
এক দীর্ঘ রোদ বিছানা হলে
ডানা ভিজে থাকে না ব্যালকনির
পথের বয়স মাপে না সকাল
এক পুকুর কখন আয়না
ঘাটমেয়ের
তল্লাশির ভিতর কখন চিরুনি
ঢুকে গেলে দুটো মাছ কখন
চোখের তুলনায়
চিবুক ভালো লেগে যায় চুলের গতিপথে
শয্যা
আমাদের বাঁচা মরার ভিতরে একটি শয্যা রয়েছে। জানালা দু হাত খুলে দিলে সেখানে আলো বেজে ওঠে। মেঘ মানে শুধু সাদা কালো সিনেমা নয়। একটা নীল সমুদ্রে পড়ে আছে রামধনু। চোখ কখন কি মেখে নেয় বালিশে মাথা দিয়ে। সেখানেও কাজলের গায়ে সজলের কথা হয় আর ছড়িয়ে পড়ে মীড়। আগুনের সঙ্গে শয্যার সম্পর্ক আজীবন। আমরা যারা সকাল ফোটাতে পারি না তারা রজনীকান্ত শুনি। একা ঘর নক্ষত্রের সখ্যতা বেছে নেয়। এখানে শ্বাস কষ্ট নেই। চাদরের ফুসফুসে খেলে না সংক্রমণ। কখন অতনু হয়ে পড়ি। শেষ পাতার সেই গল্প টবকে ভালবাসা দিলে হারানো সুর। দেয়ালে শেয়ার করি প্রজাপতির উড়ান। এসো ভাষা তোমার নিরাময় সজ্জা নিয়ে । শুন্য সাঁজির অন্দরমহল মুখরিত হোক।
একটি প্রেমের কবিতা
একটা পেয়ালা আমায় গেয়ে নিচ্ছে
আর সেই বেঞ্চিটা বলে দিচ্ছে
কতটা উষ্ণ হলে ঠেকে
একটা আকাশ আনা যায় সাতরঙা
কে তোকে কাচের গুলির কথা ফোটালো
আর কে লিখলো শার্সিভাঙা জানালার চোখে
প্রথম প্রেমের চিঠি গোপন কালিতে
তারপর ফেরত আসা সুর লিপস্টিকের
ছাদ এভাবেই যে উড়ে যাবে মেঘ উপত্যকায়
জানত তার দুই মোম হয়ে যাওয়া উরু
খেলার নিয়ম বদলে একটু সাহসী সাজলে
বাহবা বাজিয়ে জেগে ওঠে দুপুর শরীর


Comments
Post a Comment