কবি ফরিদ আহমদ দুলাল
কবি ফরিদ আহমদ দুলাল-এর লেখালেখি শুরু করেন ১৯৬৮ সালে। প্রথম লেখা প্রকাশিত হয় ১৯৭৪ সালে। এ পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ৩৯টি। তার মধ্যে কাব্যগ্রন্থ ১৭টি।
প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ: অপূর্ব ডেকে যায়, লাবণ্য ছুঁয়েছি তোমাকে, জলের গহীনে রোদ, নিবিড় নিঃশ্বাস তার, করতলে রাত্রির ছোঁয়া, মুখোমুখি দুঃসময়, দীর্ঘ বিষাদ সড়ক, নিঃসঙ্গ রজনীর লাবণ্য, প্রত্যুষের বাগান রচনাপর্ব, মৈমনসিং গীতিকাভাসান, অরণ্যে অনর্থ তোলপাড়, সিলেক্টেড পোয়েমস, নাইওর, কৃষ্ণকলি নাম তার, মৃত্তিকাবন্দনা ইত্যাদি।
সাহিত্যপত্র সম্পাদনা : স্বতন্ত্র (২৫টি সংখ্যা)।
পুরস্কার ও সম্মাননা : মহাদিগন্ত পুরস্কার, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত (২০০৯), ময়মনসিংহ প্রেসক্লাব পদক, ময়মনসিংহ (২০১০), নাসিমা বানু স্বর্ণপদক: বনমালী ইনস্টিটিউট, পাবনা (১৯৯৯), রূপসী বাংলা পুরস্কার, জীবনানন্দ স্মৃতি সংসদ, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত(২০০৯); সেবা সম্মাননা, সেবা নিকেতন, ময়মনসিংহ (২০০৫), গীতিকার সম্মাননা, সন্দীপন সাংস্কৃতিক সংস্থা, ময়মনসিংহ (২০০৬), বাংলাদেশ রাইটার ক্লাব সম্মাননা, বাংলাদেশ রাইটার ক্লাব (২০০৬), নাট্যজন সম্মাননা, ময়মনসিংহ থিয়েটার এসোসিয়েশন (২০০৩), নাট্য সম্মাননা, জেলা পরিষদ, ময়মনসিংহ(২০০০)।
গুচ্ছ কবিতায়
কবি ফরিদ আহমদ দুলাল
ষড়রিপু সিরিজ থেকে....
১ কামাভিজ্ঞান
কামোদ্দীপন দেখায় অভিন্ন জঙ্ঘার কাতরতা
পুরোনো স্তনের মাদকতা পুনর্বার মেলে ধরে;
কামান্ধতা অন্ধকারে অনায়াস বিচরণ করে
সমস্ত ভূভাগ ঘুরে সংকীর্ণ ডোবার ঘোলা জলে সন্তরণ আকুলতা।
কামরূপ শৃঙ্গারে হয় সাময়িক রাগ বিমোচন
অতঃপর বড়জোর যৎকিঞ্চিত ঈষোদোষ্ণ লাভা উদ্গিরণ।
কামান্ধের তাই নতুনের খোঁজে বহুগামিতায় সুখ
সহস্র সন্ধানে যেন চৌষট্রি কলায় খোঁজে বিচিত্র অসুখ।
কাম-ক্রোধ-লোভ-মোহ-মদ ও মাৎসর্য শত্রু মানব জীবনে
সৃষ্টিতে কামের যোগ পৃথিবী সে কথা জানে মানি মনে মনে।
কামে লাস্য-লিপ্সায় শরীরী বাসনার তীব্র আবেগানুভব
কামাকাঙ্ক্ষার সঞ্জিবনীতে আছে পৃথিবী সরব
যৌন সম্ভোগাকুতিতে কাম, জ্ঞান-শক্তি লক্ষ্যার্জনে কাম
কাম সৃষ্টি-তৃষ্ণায় অশান্ত ।
কখনো প্রলয় পৃথিবী চঞ্চল হয় কলাহীন অন্ধ কামে
শস্যক্ষেত্র উর্বর-আবাদী হয় মাঠে যদি কাম-বৃষ্টি নামে।
২ ক্রোধাগ্নি
ক্রোধানল পোড়ে সদর অন্দর অর্জিত সঞ্চয়
পরাজয়ের সিংহদুয়ার ক্রোধে উন্মোচিত হয়,
ক্রোধে জন্ম নেয় হন্তারক পাপাচার
ধংসযজ্ঞ আনে ক্রোধে রক্তপাত কল্যাণসংহার
শৌর্য-বীর্য নেই ক্রোধে পাবে করুণাক্লিষ্ট জীবন
জেদ-স্পৃহা-প্রজ্ঞা পুড়িয়ে সে করে তিক্ত মনস্তাপ সংক্রমণ;
আত্মঘাতী ক্রোধ নিজের কবর খোঁড়ে
অন্যকে যতটা পোড়ায় তার চে বেশি নিজে পোড়ে;
ক্রোধ বীজাধার যেখানে জন্মায় পাপিষ্ঠ রাবণ
ক্রোধাগ্নি বিপন্ন করে মানুষের আত্ম-নিয়ন্ত্রণ।
ক্রোধ সে তো যুদ্ধের জমজ সহোদর
যে কী-না ভাইয়ের বুকে চালায় খঞ্জর!
ক্রোধ অগ্নিগিরির জ্বলন্ত লাভা পোড়ে বনাঞ্চল
সরল বসতি পোড়ে দুঃখির সম্বল
স্বপ্নজনপদ পোড়ে বাড়ে ধ্বংসস্তুপ
কিংকর্তব্যবিমূঢ় সকালে থাকে প্রকৃতি নিঃশ্চুপ
মনোবৈকল্যের গূঢ় চাপ ক্রোধ অপ্রকাশ্য পাপ
পরিত্রাণ পেতে চাই অসহ্য সন্তাপ;
ক্রোধে নিঃস্ব গোলাঘর বোনেদী জীবন
জীবনে মঙ্গল যদি চাও করো ক্রোধ সম্বরণ।
৩ লোভে দুর্ভোগ
প্রাপ্যের অধিক পাবার আকাঙ্ক্ষা পাপ
অন্যের বাতর ভেঙে অযথা কুড়াও অভিশাপ!
অনুকম্পায় যা তুমি পাও তা কোন অর্জন নয়
ভাঁড়ার ঘরের তালা খুলে পাবে যা-কিছু সঞ্চয়
ও সব যক্ষের ধন বিষধর সর্প পাহারায় থাকে
অনৈতিক প্রাপ্তিগুলো বিষকুণ্ডুলি আগলে রাখে;
মোহগ্রস্ত তুমি তাই পেতে চাও আঁধারের কড়ি
অন্ধতায় বুঝতে পারো না সবাই তোমার মন মনস্তত্ত্ব পড়ি।
'লোভে পাপ পাপে মৃত্যু' অমোঘ বাণীটি আজো সত্য পৃথিবীতে
প্রবঞ্চনার প্রদীপ জ্বেলে ভুলে থাকো যদিও বা কলগীতে!
লোভে যদি হয় আপাত কিঞ্চিৎ মধু প্রাপ্তিযোগ
তবু মনে রেখো সে অনিরামেয় রোগ;
চক্রবৃদ্ধিহারে বাড়ে মানব অন্তরে
হন্তারক পাপী হয়ে ঘোরে লোভ বিশ্বচরাচরে
কখনো বিপাকে যদি পড়ে গণপিটুনিতে মরে;
নিরাময় হয় না আগুনে সে নিজেই জ্বলে তুষেরআগুন
রক্তচোষা জোঁক ছাড়াতে প্রয়োগ করো বিষ-নুন!


Comments
Post a Comment