কবি বনশ্রী রায় দাস


বনশ্রী রায় দাস

জন্ম:- পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তামলদা গ্রামে।শূন্য দশকের কবি। পশ্চিমবঙ্গে এবং দেশ বিদেশের বিভিন্ন প্রথম সারির পত্রিকায় নিয়মিত লেখা প্রকাশিত হচ্ছে । চারটি কাব্যগ্রন্থ- - নৈঃশব্দ্যের বাতিঘর, অনন্তের স্পর্শধ্বনি,  মগ্ন জলের অন্তরা ,বেদুইন মেঘের ইশারা। 'নীল অর্কিডের আত্মকথা' প্রকাশের পথে।

গুচ্ছ কবিতায়
কবি বনশ্রী রায় দাস


আমি সেই অথৈ জলে

          

ঠোঁটে খড়কুটো আঁকড়ে সংসার 

গুছিয়ে নিতে ব্যস্ত ফিঙ্গেপাখি 

আমার কাচের হৃদয় ঠুকরে ঠুকরে 

ঋতুঘুম ভাঙিয়ে দিল বসন্তবৌরি ।


তোমার বাগানে শখের ফুলগুলো 

কিছু না বলে থাকে অপেক্ষায় 

কোথায় পায় সে এতো মেধা  ?

শিশিরে গা ধুয়ে চৈতন্যের চাঁদ খায়

জলের ধ্যানে সাঁতার কাটে অনায়াস ।


এই বিষয়ে সাতসতেরো ভাবতে ভাবতে 

কলেজ বেলার মতো ডাক দিলে

তুমি আমাকে নিতান্ত খেলার ছলে

খেলতে খেলতে তোমার দল ডাঙায় 


আমি সেই কুমিরের অথৈ জলে।


বেকারত্ব 

   

ভাঙ্গা সাঁকোয় মহাকালের হিম জমেছে 

বাতাসের দুই ভুরুর মাঝে জল-কাঁপন 

মেঘের ঝাঁকড়া চুলে বিলি কাটে 

ঘরে ফেরা খঞ্জন, খসে পড়ছে শুকনো পাতা 

বুকের আগুন ছুঁয়ে যায় ক্যানভাস ,

কৈশোরকাল বোঝে না গণতন্ত্র কী

খায় না শীত নিবারণের উষ্ণ চাদর ?

দুটাকা পেলেই দৌড় দেয় সার্কাসের টিকিট কাটে ...

যৌবনের অশ্বযান শক্ত করে চিবুক 

বড় হয় চারপাশের পৃথিবী 

আকাশ সীমাহীন, চাঁদ নাগালের বাইরে 

চলতে চলতে আলো ফুরিয়ে আসে

বাড়তে থাকে পথের দূরত্ব

বুকভাঙা জলেও ধুয়ে দিতে অক্ষম 

বেকারত্বের অন্ধকার,ক্রমশ কঠিন জীবন 


ক্যানভাসে বোনা স্বপ্ন বীজ পায় না সরস মাটি 


হারিয়ে যাই ইচ্ছে করে 

          

আমার চারপাশে গাছগাছালি, ফুলফল 

বাছুরের খুঁটি, পুকুর ঘাটের দিকে হাঁসরাস্তা 

এমন কি তিনমাথার মোড়ে জাগ্রত বৃক্ষ 

দীপের আলো , এসবই মুখস্থ আমার।


অজস্র চাকার ধুলো ঢেকে দ্যায় 

পাখি আঁকা আকাশের দস্তাবেজ ,

পথে কিলবিল করে দেঁতো পোকা

কুটি কুটি করে পাতার প্রশ্বাস ,

আয়ুক্ষয়ের নিঃশব্দ চিৎকারগুলো 

ক্লান্ত হয়ে পড়ে ভিতরে ভিতরে ।


চোখ বুজলে হারিয়ে যাই ইচ্ছে করে 

বিন্ধপর্বতের গিরি কন্দরে ,

পৃথিবীর প্রথম চকমকি পাথর জ্বেলে

খুঁজতে থাকি আমার মুখস্থ পাতাগুলি ।


      







      

Comments

Post a Comment

Popular posts from this blog

কবি-প্রাবন্ধিক অমলেন্দু বিশ্বাস

সূ চি প ত্র

কিছু বলা কথা